গল্প জ্বিনের সংসার 

পর্ব__ ০২

#লেখক__মোঃ__নিশাদ


যারা প্রথম পর্বটা পড়েননি পড়ে নিবেন। 


____এদিকে অনেকে ভয়ে ভূত ভূত বলে চিৎকার করতে লাগলেন। 


  সবার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও এসে জড়ো হলেন বাড়িতে। 


কি একটা অবস্থা। যাকে একটু আগে মাটি দিয়ে আসলেন সে আবার জীবিত হয়ে ফিরে আসলো কিভাবে। 


সবার মাঝে ভয় আর আতংক দেখে জান্নাত বললেন। 


জান্নাত - ভয় পাবেন না কেউ,, আমি ভূত না। আমি জান্নাত আর তোমরা সবাই ভুল ভাবছো আমি মরিনি। 


  __জান্নাতের মুখে কথাটা শুনে ওর বাবা, এক পা দু পা করে সামনে এগিয়ে এসে বললেন। 


 জান্নাতের বাবা- কি তুই মারা যাসনি। তুই কি আসলেই জান্নাত নাকি মানুষ রুপে কোন ভূত | 


জান্নাত- বাবা আমি ভূত না। আমি তোমাদেরি জান্নাত,, বিশ্বাস না হলে ছুঁয়ে দেখো আমাকে। আর আমি ভূত হলে কি সবার সামনে আসতাম। 


জান্নাতের কথায় ওর বাবা ভয়ে ভয়ে, ওর হাত ছুঁয়ে কেঁদে ফেললেন,, আর বললেন। 


জান্নাতের বাবা- মা তুই মারা যাসনি,, সত্যি বেঁচে আছিস, এই কে আছো, এদিকে আসো জান্নাতকে ঘরে নাও।। 


_____জান্নাতের বাবার কথায়, দু তিনজন মহিলা এসে জান্নাতকে নিয়ে রুমে গেলেন। রুমে গিয়ে শরীল থেকে কাফনের কাফন খুঁলে শরীল পরিস্কার করে জামা পড়িয়ে আবার সবার সামনে নিয়ে আসলেন। 


সবার সামনে এসে জান্নাত বললেন। 


জান্নাত: বাবা,, আমার সাথে কেনো এমনটা হলো৷ একবার ভাবো আমার মনের অবস্থাটা এখন কেমন। একটা জীবিত মানুষকে কিভাবে মাটি দিয়ে আসলা। 


 ___ জান্নাতের বাবা: মা বিশ্বাস কর। আমরা সবাই দেখছি তোর নিশ্বাস চলছেনা। একজন ডাক্তারকেউ দেখিয়েছি ওনিও বললেন তুই বেঁচে নেই মারা গেছিস। কোন মা বাবা কি চায় জীবিত সন্তানকে মাটি দিতে বল। 


জান্নাত- আমিও বুঝছিনা। আমার সাথে কেন এমনটা হলো৷ আমিতো ঘুমিয়ে ছিলাম। জানো বাবা আমি ঘুমিয়ে একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। আমি দেখলাম খুব সুন্দর একজন যুবক আমার পাশে বসে কথা বলছে,, সে আমাকে বলছে জান্নাত,, তুমি হবে আমার বউ,, আমাদের সংসার হবে। 


____জান্নাতের বাবা: তারপর কি হলো। 

জান্নাত: তারপর আর কিছু মনে নেই। আমার যখন ঘুম ভেঙে গেলো। তখন দেখলাম চারিদিকে অন্ধকার। আশপাশে হাত দিয়ে বুঝতে পারলাম চারিদিকে মাটি। ভয়ে উঠে দাঁড়িয়ে উপরের দিকে ধাক্কা দিতে মাটি সরিয়ে গেলো আর আমি বুঝতে পারলাম আমি সাদা কাফনে মুড়ানো কবরের উপরে দাঁড়িয়ে আছি || 


____জান্নাতের মুখে কথাগুলো শুনে সেখানে থাকা সবাই অবাক,, এরকম ঘটনাও কি হয়।  


মৃত মেয়েকে ফিরে পেয়ে সবাই জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। এদিকে ওর মায়ের জ্ঞান ফিরানো হয়, জ্ঞান ফিরতেই ওর মা ও জান্নানকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। 


গভীর রাতে কান্নার আওয়াজ,, মৃত জান্নাত ফিরে আসছে,, এই খবরটা রাতের গ্রামের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। 


____যাইহোক,, জান্নাতকে ফিরে পেয়ে সেই রাতে আর কেউ ঘুমায়নি। 


পরেরদিন সকাল বেলা,, গ্রামের সবাই জড় হন জান্নাতকে দেখার জন্য।।


সবাই আসছে আর জান্নাতকে দেখছে। ____


এভাবে সেদিনটা কেঁটে যায়। সেই রাতে খাবার সময় জান্নাতের বাবা বলেন। 


জান্নাতের বাবা: বিষয়টা কেমন হলো।। জান্নাতের বিয়ে ঠিক করলাম। এই ঘটনা না ঘটলে আজকে জান্নাতের বিয়ে হত। এখন কেমন হলো। 


জান্নাতের মা: কেনো,, তুমি ছেলের বাবার সাথে কথা বলে দেখো,, ওনাকে সব খুঁলে বলবে।। ওনাকে বলবে জান্নাত মারা যায়নি ফিরে আসছে৷ দেখো এতে যদি ওনারা বুঝে তাহলে জান্নাতের বিয়ে ওখানেই হবে। 


জান্নাতের বাবা: ঠিক আছে, দেখি কাল কথা বলে। 


এই বলে রাতের খাবার শেষে। সবাই যার যার মত শুয়ে পড়ে। জান্নাত ও রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। 


____মধ্যে রাত৷ জান্নাতের হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় মশার কামড়ে। 


ঘুম ভাঙতেই জান্নাত দেখেন। সে তার রুমে নেই। সে শুয়ে আছে একটা বাঁশ ঝাড়ে। 😳


তারপর____

Next____

Post a Comment

Previous Post Next Post