#গল্প__রোমান্টিক__জ্বিন__বর
#শেষ__পর্ব
#লেখক__মোঃ__নিশাদ
কেঁটে গেলো কয়েকটা বছর, খুশির হিসাব মতে হামজা কারাদন্ড হবার দশ বছর পূর্ণ হইছে, এখন সুধু দিন গনার পালা হামজা কখন আসবে খুশির কাছে, খুশি প্রতি নিয়ত সেই অপেক্ষায় থাকে।
___এদিকে খুশির অপেক্ষায়, পানি ঢেলে দিয়ে ওর মা বাবা কয়েক বছর পর আবারো খুশির জন্য একটা ছেলে দেখলেন ওকে বিয়ে করানোর জন্য।
খুশির বিয়ে ঠিক হওয়ায় খুশি ওর মা বাবাকে বললো....
খুশি: মা, তোমরা আবার কি শুরু করলা, আমি হামজার বউ, হামজা আসবে, আমি অন্য কাউকে বিয়ে করবোনা।
খুশির মা: আমরাও একটা জ্বিনকে আমার মেয়ের জামাই হিসেবে মানিনা৷ তাই তোর বাবা আর আমি মিলে ঠিক করছি তোর বিয়ে দিবো।
খুশি: বিয়ে কি দিতে পারবা, হামজার বাবা এসে তো বিয়ে ভেঙে দিবে তাইনা।
খুশির মা: পারবেনা, হামজার বাবার অনেক কেরামতি দেখছি আর না। আমরা একজন কবিরাজ নিয়ে এসে, ওনাকে দাঁড় করিয়ে তোর বিয়ে দিবো বুঝলি, তাই হামজার কথা বাদদিয়ে নতুন করে সংসার করার স্বপ্ন দেখ।
খুশি: মা তোমরা কিন্তু ভুল করছো, হামজার বাবা কিন্তু তোমাদের ছাড়বেনা।
খুশির বাবা: আমরা হামজার বাবার সাথে কথা বলছি৷ ওনি আমাদের সত্যি কথা বলছে, ওনি বলছে, হামজার দশ বছরের কারাদন্ড হয়নি, একশো বছরের কারাদন্ড হইছে, এই একশো বছর তুই আমি কেউ বেঁচে থাকবোনা, তাই আমরা অন্য ছেলের সাথে তোর বিয়েটা দিতে চাই।
খুশি: না আমি বিশ্বাস করিনা। আমার হামজার একশো বছরের কারাদন্ড হতে পারেনা, বাবা আমাকে মেরে ফেলো তবুও অন্য কারো সাথে বিয়ে দিওনা।
খুশির বাবা: তাহলে তুই আমাদের মেরে ফেল, তুই কি চাস আমরা মরে যাই, আমাদের মরা মুখ দেখতে না চাইলে বিয়েতে রাজি হয়ে বিয়েটা কর, নইলে আমাদের মরা মুখ দেখ।
খুশি: বাবা এমনটা বলোনা, ঠিক আছে, আমাকে কষ্টে রেখে যদি তোমরা খুশি থাকো ভালো থাকো তাহলে আমি রাজি, তোমরা বিয়ের ব্যাবস্তা করো আমি বিয়ে করবো। 😢
____খুশির কথায় ওর মা বাবা ঠিক তার পরেরদিন বিয়ের ব্যাবস্তা করলো।
খুশির বিয়ে তাও আবার অন্য কারো সাথে। ওর ভিষণ মন খারাপ, খুশি একটা বিশ্বাস নিয়ে বিয়েতে রাজি হইছিলো, খুশি জানে হামজার বাবা এই বিয়েটা হতে দিবেনা, ভেঙে দিবে, কিন্তু না বিয়ের দিন হামজার বাবা আসলোনা, অন্য কারো সাথে খুশির বিয়ে হয়ে গেলো। 😲
অন্য কারো সাথে বিয়ে হওয়ায় খুশি যেনো বেঁচে থেকেও মরে গেছে। হামজাকে রেখে অন্য কারো সাথে বিয়ে হইছে ঠিকি কিন্তু খুশি তাঁকে কখনও মেনে নিবেনা, তাই খুশি বাসর রাতে ওর নতুন স্বামীকে বললো।
খুশি: দেখুন, আপনার একটা বিষয় জানার খুব দরকার, আমি আপনাকে বিয়ে করছি ঠিকি কিন্তু আমি আপনাকে বর হিসেবে মানিনা, কখনও মানবোনা, কারন আমি আগে থেকে বিবাহিত হামজা নামে একটা জ্বিন আমার বর।
নতুন স্বামী : কি বলো, জ্বিন তোমার বর হয় কি করে। তোমার সব অতীত মুছে ফেলো আজ থেকে আমি তোমার স্বামী আমার কথা মনে রাখো৷
খুশি: না কখনও না। আমি সুধু হামজার বউ, অন্য কারো না। প্লিজ দয়া করুন৷ আমার কাছে আসবেন না।
নতুন স্বামী : তুমি হামজা জ্বিনটাকে এত ভালোবাসো। আচ্ছা,, আমিতো তোমার স্বামী, তুমি হয়তো আমাকে স্বামী হিসেবে মানোনা। আমার একটা স্বপ্ন ছিলো, বিয়ের পর বাসর রাতে বউকে কিছু একটা গিফট করা, তুমি দয়া করে চোখটা বন্ধ করো, আমি আমার গিফটটা তোমাকে দিয়ে চলে যাই, বিশ্বাস করো কিছু করবোনা, চোখ বন্ধ করো।
____খুশি: হুম, ওকে নিজের কথা রাখবেন কিন্তু, এইযে চোখ বন্ধ করলাম দিন কি দিবেন।
খুশি চোখ বন্ধ করে, চাইতে লাগলেন, কিন্তু ওর নতুন বর ওকে কিছু দিচ্ছেই না। এদিকে খুশি বার বার বলছে, কই দিন, আমি কিন্তু চোখ খুলে ফেললাম, খুললাম কিন্তু।
এই বলে খুশি চোখ খুঁলতেই দেখলেন, হামজা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।😳
____হামজাকে দেখে, খুশি এক লাফে ওকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো।
খুশি: হামজা তুমি, কই থেকো আসছো, কেমন আছো, তুমি দশ বছর পর তোমাকে দেখলাম।
হামজা: কেঁদো পাগলী, এইতো আমি আসছি, তোমার হামজা ফিরে আসছে।
খুশি: তুমি এখানে তাহলে ওনি কই যার সাথে আমার বিয়ে হলো।
হামজা: আরে বোকা, তোমার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়নি, আমি ছিলাম ওটা, অন্য কারো রুপে।
খুশি: কিহ বলো তাই, হামজা মা বাবা জানলে তো সর্বনাশ হয়ে জাবে।
হামজা: আরে কিছু হবেনা, তোমার মা বাবা যেনে শুনে আমার সাথে তোমার বিয়ে দিছে, ওনারা সবি জানে আমার কথা, এসব তো ওনাদেরি প্লান। বিশ্বাস না হলে তোমার মা বাবা বাইরে আছে যাও গিয়ে জিজ্ঞেস করো।
হামজার কথায় খুশি এক দৌড়ে বাইরে গেলেন, আর ওর মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
খুশির এমন কান্না দেখে ওর মা বললেন।
খুশির মা: কি ভাবছিস, আমরা এতটাই খারাপ, হামজা আমার জন্য কারাগারে গেছে, আমার জন্য ওর শাস্তি হইছে, সেই আমি তোকে অন্য কারো সাথে বিয়ে দিবো ভাবলি কি করে৷
খুশির বাবা: আমরা তো এতটাও খারাপ না মা। জেনে শুনে তোর জিবনটা শেষ করে দিবো। তোর হামজা ফিরে আসছে, যা ওর কাছে যা.....
মা বাবার মুখে এসব কথা শুনে কান্না ভরা চোখে হেঁসে দিলেন খুশি৷ হাসিমুখে এক দৌড়ে আবার রুমে গেলেন। রুমে যেতেই হামজা বললো।
হামজা: কি বিশ্বাস হলো তো। এখন আর ভয় নেই। তোমার মা বাবা আমাকে মেনে নিছে....
খুশি: হামজা, দশ বছর পর আসছো, তুমিতো আগের মত আছো, আমি তো বুড়ি হয়ে যাচ্ছি। 😓
হামজা: হাহাহা পাগলী একটা।
খুশি: তোমাকে দশ বছর পর পেলাম, তবুও হাড়ানোর ভয় করে, জানো অনেকে তোমার দিকে নজর দেয়।
হামজা: তাই নাকি, কে নজর দেয় আমার দিকে।
খুশি: কে আবার, গল্প পড়ে যে মেয়ে গুলা, ওগুলা ওরা বলে ইস হামজা জ্বিন যদি আমার হত ওর মত যদি একটা বয়ফ্রেন্ড পেতাম। এভাবে বলে....
হামজা: হাহাহা তাই বুঝি। বলে লাভ কি ওরা তো আমার দেখা পাবেনা তাইনা। ভয় পেওনা। এখন চলো তোমাকে আমার রাজ্যে নিয়ে যাবো।
খুশি: ওকে চলো, তার আগে সবার কাছে বিদায় নেই, যারা এতদিন আমাদের গল্পটা পড়তো..
হামজা: হুম ঠিক, সবাই অনেক ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম।
খুশি: নিজেদের খেয়াল রাখবেন ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম।
সমাপ্তি।......
রোমান্টিক জ্বিন বর গল্প টা শেষ করলাম, এই গল্পটা লিখে আপনাদের অনেক সার্পোট ও ভালোবাসা পেয়েছি, গল্পটা কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন, আগামীকাল খুব সুন্দর একটা রহস্যময় ভূতে গল্প নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ....
গল্পর নাম....
গল্প যখন সত্যি....
____কে রে তুই " গভীর রাতে এখানে কি করিস।
ফারিয়া: আমি কে মানে আমার নাম ফারিয়া তুই কে..?
ভূত: আমি হলাম ভূত। 💀
ফারিয়া: ভূত মানে৷ ওমাগো, আমার বাকি বন্ধুরা কোথায়।
ভূত: ওদেরকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছি ফ্যানের সাথে।
ফারিয়া: কেন ভাই, আমরা তোর কি ক্ষতি করছি যে আমাদের পিছনে লাগলি...
ভূত: গভির রাতে, এই পরিত্যক্ত পুরুনো জমিদার বাড়িতে তোরা কি করিস, এটা আমার থাকার জায়গা এখানে কেউ একবার আসলে আর ফিরতে পারেনা হাহাহা.....
গল্পটা কাল থেকে পাবেন ইনশাআল্লাহ.... রহস্যময় ভূতুরে মজার গল্প এটা। অপেক্ষা করুন...
গল্পঃ রোমান্টিক জ্বিন বর
লেখক মোঃ নিশাদ
সকল পর্বের লিংক
পর্ব০১
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_8.html
পর্ব০২
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_41.html
পর্ব০৩
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_46.html
পর্ব০৪
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_85.html
পর্ব০৫
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_33.html
পর্ব০৬
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_58.html
পর্ব০৭
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_92.html
পর্ব০৮
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_7.html
পর্ব০৯
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_23.html
পর্ব১০
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_14.html
পর্ব১১
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_60.html
পর্ব১২
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_93.html
পর্ব১৩
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_12.html
পর্ব১৪
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_19.html
পর্ব১৫
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_59.html
পর্ব১৬
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_51.html
পর্ব১৭
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_44.html
পর্ব১৮
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_98.html
পর্ব১৯ (শেষ পর্ব)
Post a Comment