গল্প রোমান্টিক জ্বিন বর
পর্ব: ১৭
#লেখক__মোঃ__নিশাদ
আমার হামজার কিছু হয়নি ও আসবে নিশ্চয়ই।
খুশির মুখে এসব কথা শুনে ওর মা বললেন। দেখ মা আবেগে অনেক কথা বলা যায়। কিন্তু এটাই সত্যি হামজা হয়তো আর ফিরে আসবেনা। কেউ মারা গেলে কি আর ফিরে আসে বল।
খুশি: আমার মন বলে হামজার কিছু হয়নি, কেন বুঝনা। তুমি যাওতো মা আমি একা থাকবো কিছুক্ষন।
নিজের চোখের সামনে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে খুশির মা বাবাও চিন্তিত।
যাইহোক, এভাবে কেঁটে গেলো। আরো কয়েকটা দিন। কয়দিন পর এক রাতে খুশি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ খুশির মা খুশিকে ডাক দিয়ে বললেন।
খুশির মা : খুশি, এই খুশি ঘুমের মাঝে কার সাথে কথা বলিস।তোর চোখে পানি কেন।
খুশি: মা, আমি স্বপ্নে হামজাকে দেখেছি, আমি দেখলাম দূর থেকে হামজা আমাকে ডাকছে, জানো মা মনে হচ্ছে ও কোন খাচায় বন্দি।
খুশির মা: এসব তোর ভুল ধারণা হামজা মারা গেছে৷ তুই ভুল কাউকে দেখছিস।
খুশি: না মা আমার দেখা ভুল হতে পারেনা৷
খুশির মা: দেখ খুশি এভাবে আর হয়না, তোর পেটে বাচ্চা, কিন্তু বর নেই, এলাকার মানুষদের আমরা কি জবাব দিবো বল। তোর বাবা আর আমি মিলে ঠিক করছি, তোর পেটের বাচ্চাটা নষ্ট করে তোকে অন্য কোথাও বিয়ে দিবো।
খুশি: না, না মা এটা কখনই করবোনা, এটা খুব মারাত্মক একটা পাপ কাজ, আমি আমার সন্তানকে দুনিয়াতে নিয়ে আসবো, ওর কোন ক্ষতি হতে দিবোনা। হামজা বেঁচে থাক বা না থাক, আমার সন্তানের কিছু হতে দিবোনা। তুমি আর বাবা ভালো করে শুনে রাখো আমার ছেলের কখনও কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করবানা।
খুশির মা : এলাকার মানুষদের কি জবাব দিবো, তুই বল।
খুশি: ওদের যা বলার আমি বলবো।
খুশির মা : ঠিক আছে, তোর কথা মানলাম, তোর সন্তান ভালোই ভালোই জন্ম নেক এটাই চাই, কিন্তু তোকে বিয়ে করতে হবে, সেটা আজ হোক বা দু বছর পর হোক।
এই কথাটা বলে খুশির মা চলে গেলেন।
এদিকে খুশি, মন খারাপ করে শুয়ে রইলেন।
এভাবে কষ্টের মাঝে কেঁটে গেলো, কয়েকটা মাস, এদিকে খুশির পেটে সন্তান ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলেন।
____এক রাতের ঘটনা, মধ্যে রাত, খুশির হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, কি কারণে ভেঙে যায় সে জানেনা।
খুশি বিছানায়, উঠে বসে, ঠিক তখনি সে খেয়াল করে তার রুমে হামজার বাবা আসছেন। হামজার বাবাকে দেখে খুশি বললেন।
খুশি: আসসালামু আলাইকুম। আপনি আসছেন। কেমন আছেন আপনি।
হামজার বাবা: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তোমার কথা জিজ্ঞেস করলাম না কারণ তুমি ভালো নেই জানি।
খুশি: বাবা, আমি কি করবো, আমিযে মানতে পারিনা, হামজা মারা গেছে, আমার মন তো মানেনা।
হামজার বাবা: কিছু কিছু বিষয় কষ্ট হলেও, বিশ্বাস না হলেও মেনে নিতে হয়। তোমার পেটে হামজার সন্তান, এই সময়টা খুব সাবধানে থাকবে। তোমাকে দেখার জন্য তোমার বাড়ি পাহাড়া দেয়ার জন্য আমি অনেক আগে থেকে দুজন জ্বিন রেখে দিয়েছি, ওরা অদৃশ্য হয়ে থাকে তাই বুঝতে পারোনা৷
খুশি: বাবা, আমার মা বাবা তো আমাকে বিয়ে দিতে চায়। কি করবো আমি, আমি হামজাকে কখনও ভুলতে পারবোনা৷
হামজার বাবা: তুমি চিন্তা করোনা, আমি তোমার মা বাবার সাথে কথা বলবো। আজ আসি তুমি সাবধানে থেকো৷
খুশি: বাবা দাঁড়ান এক মিনিট।
এই বলে, খুশি সোজা গিয়ে হামজার বাবার পা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললেন...
খুশি: বাবা, দয়া করে বলে জান, হামজার কি হইছে ও কি সত্যি মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে,, আমি মরে জাবো বাবা, দয়া করে বলুন আমাকে, একটু দয়া করুন।
হামজার বাবা : পা ছাড়ো, তোমার ভালোবাসা সত্যি, আমি অনেক আগে বুঝে গেছি, তোমার মা বাবা আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করার পর, আমি ভাবছি তোমার আর হামজার আলাদা হওয়া ভালো, কিন্তু তোমার ভালোবাসা আমাকে আবার ফিরিয়ে আনছে তোমার কাছে, শোনো মা হামজা মারা যায়নি বেঁচে আছে। 🥺
খুশি: কিহহ, হামজা বেঁচে আছে, কিন্তু কোথায় ও আমার কাছে আসেনা কেন।
হামজার বাবা: কারণ হামজার দশ বছরের কারাদন্ড হইছে, তোমার মায়ের সাথে থাকা পিচাশ জ্বিনটাকে মেরে ফেলায়, আমাদের জ্বিনের সর্দার শাস্তি সরুপ হামজাকে দশ বছরের কারাদন্ড দিছে, মা তুমি হামজাকে পাবে, কিন্তু দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
খুশি: বাবা আমি বেঁচে থাকলে দশ বছর কেনো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবো।
হামজার বাবা: ভালো থেকো মা, নিজের খেয়াল রেখো, আজ ফিরতে হবে।
এই বলে হামজার বাবা চলে গেলেন। এদিকে খুশি কান্না ভরা চোখে মুসকি একটা হাসি দিয়ে মনে মনে বললেন, হামজা তোমার সন্তান আমার পেটে....
তারপর....
Nex....
গল্পঃ রোমান্টিক জ্বিন বর
লেখক মোঃ নিশাদ
সকল পর্বের লিংক
পর্ব০১
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_8.html
পর্ব০২
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_41.html
পর্ব০৩
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_46.html
পর্ব০৪
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_85.html
পর্ব০৫
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_33.html
পর্ব০৬
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_58.html
পর্ব০৭
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_92.html
পর্ব০৮
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_7.html
পর্ব০৯
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_23.html
পর্ব১০
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_14.html
পর্ব১১
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_60.html
পর্ব১২
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_93.html
পর্ব১৩
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_12.html
পর্ব১৪
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_19.html
পর্ব১৫
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_59.html
পর্ব১৬
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_51.html
পর্ব১৭
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_44.html
পর্ব১৮
https://www.linkstorebd.com/2024/04/blog-post_98.html
পর্ব১৯ (শেষ পর্ব)
Post a Comment